ভূমিকা: পুনর্জন্ম
**১৯৪২ সালের মার্চ মাসের একদিন, শিকাগো শহরতলির একটি সাধারণ হাসপাতালে।**
সাদা পোশাক পরা এক চিকিৎসক সদ্যোজাত ছেলে শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তিনি এক হাতে শিশুর হৃদপিণ্ড ম্যাসাজ করছিলেন, আর মুখ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দিচ্ছিলেন।
ওয়ার্ডের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন লম্বা ও চওড়া মুখের শ্বেতাঙ্গ পুরুষ। বয়স আনুমানিক ত্রিশের কাছাকাছি। তিনি উদ্বিগ্নভাবে চিকিৎসকের চিকিৎসার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন।
কয়েক মিনিট পর চিকিৎসক দুঃখিত মুখে দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন।
**"ডাক্তার..."** পুরুষটি অধীর হয়ে জিজ্ঞেস করল।
**"সত্যিই দুঃখিত! আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি!"** চিকিৎসক হাত ছড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন।
**"আআ... আআ..."** পুরুষটি মুখ খুললেও কিছুই বলতে পারল না।
একজন নার্স শিশুটিকে সাদা কাপড়ে মুড়ে মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুত করলেন, পরে মর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ঠিক সেই মুহূর্তে জানালা দিয়ে এক ঝলক সাদা আলো এসে পড়ল, তারপর এক গর্জন শোনা গেল।
**"বজ্রপাত!"** সকলে মনে মনে ভাবল।
**"উহু উহু উহু!"** নার্সের হাতে থাকা শিশুটি হঠাৎ জোরে কাঁদতে লাগল।
সকলে ভয়ে চমকে উঠল। চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে নার্সের হাত থেকে শিশুটিকে নিয়ে ভালো করে পরীক্ষা করতে লাগলেন।
শিশুটির বাবা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসকের নড়াচড়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
**"অলৌকিক! সে বেঁচে গেছে!"** চিকিৎসক বিস্মিত হয়ে বললেন। তিনি এর আগে মৃত শিশু পুনর্জীবিত হওয়ার ঘটনা শুনেছিলেন, কিন্তু নিজের চোখে দেখা এটাই প্রথম।
পুরুষটি আনন্দে অধীর হয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিলেন। কোলে থাকা ছোট্ট মুখটির দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হাসতে লাগলেন।
চিকিৎসকের ইশারায় নার্স সাবধানে শিশুটিকে ফিরিয়ে নিলেন। তিনি এই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ছোট্টটিকে পরিষ্কার করে নার্সারিতে রাখবেন।
**"অভিনন্দন, মি. কার্পেন্টার! আপনার পুত্র সম্পূর্ণ সুস্থ। কোনো রোগের লক্ষণ নেই।"**
চিকিৎসক পুরুষটির আবেগ শান্ত হওয়ার পর হাত বাড়িয়ে দিলেন, তিনি হাত মেলালেন।
মি. কার্পেন্টার জোরে চিকিৎসকের হাত চেপে ধরে বারবার বলতে লাগলেন, **"হ্যাঁ, আমার ছেলে ঠিক আছে! ঠিক থাকলেই হলো, ভালো!"**
মি. কার্পেন্টার কীভাবে এই সুসংবাদ মিসেস কার্পেন্টারকে জানালেন, তা বাদ দিলাম। নার্স নার্সারিতে নিয়ে যাওয়া ছেলে শিশুটি অবাক চোখে চারপাশের জিনিসের দিকে তাকিয়ে আছে।
**"আমার মনে পড়ে আমি মারা গিয়েছিলাম!"**
শিশুটির বাহ্যিক ভাব খুব শান্ত, কিন্তু মনে ভীষণ উত্তেজনা। সে কিছুতেই মনে করতে পারছে না কীভাবে এখানে এল, এমনকি কীভাবে মারা গেল সেটাও মনে পড়ছে না।
তার শুধু মনে পড়ে, অন্ধকার, কোনো আলো নেই। হঠাৎ আলো দেখা দিল, আর সে এই পৃথিবীতে এল।
**"আমি কি পুনর্জন্ম পেয়েছি?"**
তিনি এভাবেই ভাবতে পারেন, নইলে এ অবস্থার কোনো ব্যাখ্যা নেই। তিনি মৃত্যুর আগের স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করলেন। ভাবনা শুরু হতেই কপালের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো, সঙ্গে সঙ্গে নানা শব্দ ও দৃশ্য এসে হাজির হলো।
কত সময় গেল জানা নেই। তার ছোট্ট দেহ আর টিকল না। ক্লান্তিতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেল।
ঘুমের মধ্যে তিনি আবার শুরু থেকে সারা জীবনের অভিজ্ঞতা অনুভব করলেন—আগের জীবন থেকে শুরু করে এই জীবন পর্যন্ত। স্বপ্নের সময় এত দীর্ঘ ছিল যে তিনি জেগে উঠলে মনে হলো যেন জন্মান্তর হয়েছে।
**"আআ! আগের জীবনের দিন আর ফিরে আসবে না। আমি পুনর্জন্ম পেয়েছি!"**
তিনি এভাবেই ভাবছিলেন। কীভাবে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেবেন, কীভাবে আগের জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন, তা ভাবছিলেন।
তাহলে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিজের জীবনকে রঙিন করে তুলতে হবে!