অ্যালেক্স কার্পেন্টার, একজন মার্কিন বিজ্ঞানী, ঔপন্যাসিক, উদ্যোক্তা, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং রক গায়ক, এমন এক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব যার জীবনে কিংবদন্তি ও পুরাণ একত্রিত হয়েছে। তিনি মাত্র চার বছর বয়সে মঞ্চে পারফর্ম করেন, নয় বছর বয়সে অ্যালবাম রেকর্ড করেন, দশ বছর বয়সে সিনেমায় অভিনয় করেন এবং চৌদ্দ বছর বয়সেই শত কোটি ডলার উপার্জন করেন! কুড়ি বছর বয়সে তিনি যুদ্ধে অংশ নেন, দেশে ফিরে এসে মহাকাশচারী হয়ে চাঁদে প্রথম পদার্পণকারী হন! যখন তিনি সকলের আদর্শে পরিণত হন, তখন তিনি হঠাৎ জনসমক্ষে থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, আর কখনও জনজীবনে দেখা যায়নি, হয়ে ওঠেন এক নিভৃতচারী। অর্ধশতাব্দী কেটে গেলেও, এখনো কেউ কেউ দাবি করেন যে তারা অ্যালেক্সকে আগের মতোই তরুণ ও উজ্জ্বল দেখে থাকেন, সময় তার উপর কোনো ছাপ ফেলতে পারেনি!
**১৯৪২ সালের মার্চ মাসের একদিন, শিকাগো শহরতলির একটি সাধারণ হাসপাতালে।**
সাদা পোশাক পরা এক চিকিৎসক সদ্যোজাত ছেলে শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তিনি এক হাতে শিশুর হৃদপিণ্ড ম্যাসাজ করছিলেন, আর মুখ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দিচ্ছিলেন।
ওয়ার্ডের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন লম্বা ও চওড়া মুখের শ্বেতাঙ্গ পুরুষ। বয়স আনুমানিক ত্রিশের কাছাকাছি। তিনি উদ্বিগ্নভাবে চিকিৎসকের চিকিৎসার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন।
কয়েক মিনিট পর চিকিৎসক দুঃখিত মুখে দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন।
**"ডাক্তার..."** পুরুষটি অধীর হয়ে জিজ্ঞেস করল।
**"সত্যিই দুঃখিত! আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি!"** চিকিৎসক হাত ছড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন।
**"আআ... আআ..."** পুরুষটি মুখ খুললেও কিছুই বলতে পারল না।
একজন নার্স শিশুটিকে সাদা কাপড়ে মুড়ে মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুত করলেন, পরে মর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ঠিক সেই মুহূর্তে জানালা দিয়ে এক ঝলক সাদা আলো এসে পড়ল, তারপর এক গর্জন শোনা গেল।
**"বজ্রপাত!"** সকলে মনে মনে ভাবল।
**"উহু উহু উহু!"** নার্সের হাতে থাকা শিশুটি হঠাৎ জোরে কাঁদতে লাগল।
সকলে ভয়ে চমকে উঠল। চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে নার্সের হাত থেকে শিশুটিকে নিয়ে ভালো করে পরীক্ষা করতে লাগলেন।
শিশুটির বাবা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসকের নড়াচড়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
**"অলৌকিক! সে বেঁচে গেছে!"** চিকিৎসক বিস্মিত হয়ে বললেন। তিনি এর আগে মৃত শিশু পুনর্জীবিত হওয়ার ঘটনা শুনেছিলেন, কিন্তু নিজের চোখে দেখা এটাই প্রথম।
পুরুষটি আনন্দে অধীর হয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিলেন। কোলে থাকা ছোট্ট মুখটির দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হাসতে লাগলেন।
চিকিৎসকের ইশারায় নার্স সাবধানে শিশুটিকে ফির