অন্যরা অবসর গ্রহণ করলে নাতি-নাতনিকে লালন করেন, সন্তানদের দেখাশোনা করেন, কিংবা পার্কে নৃত্য করেন। পেই ইয়ের অবসর জীবনটা একটু অন্যরকম—সে টাকা খরচ করে ভার্চুয়াল সন্তানদের লালন-পালন করে। টাকা খরচ করার আগে তার মনে হত, এই গেমটা একদম বাজে, শুধু টাকা নেওয়ার জন্যই বানানো, মনোযোগও নেই। কিন্তু টাকা খরচ করার পরে—আহা, কী দারুণ! আমি শুধু টাকা খরচই করি না, পরিশ্রমও করি! এই কাগজের সন্তানদের লালন-পালন করা আসলে একধরনের শিল্প, অবসরের একঘেয়ে জীবনের মধ্যে এক নতুন অনুভূতি এনে দেয়। ভালোভাবে লালন করলে শুধু আবেগই তৈরি হয় না, আরও অনেক কিছু... উঁহু...
**সাজানো-গোছানো ঘরটি অন্ধকার। শুধু স্টাডি রুমের স্ক্রিনে নীল আলো জ্বলজ্বল করছে। মাঝে মাঝে 'টিক টিক' করে বার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে।**
এমন সময় রান্নাঘর থেকে হালকা পায়ের শব্দ কাছে আসতে লাগল। মানুষের ছায়া ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো।
টিক টিক টিক—
বার্তার শব্দ আবার এল। সেই ব্যক্তি পায়ের ভঙ্গি বদলালেন। না দেখেই যেন তিনি বাষ্পের মতো স্টাডি রুমে চলে গেলেন—এত দ্রুত যে ছায়া ফেলে রেখেছিলেন। তিনি সদ্য তৈরি করা গরম পানীয়ের এক চুমুক নিলেন। পান্ডা আকৃতির মগটি টেবিলে রেখে ভার্চুয়াল স্ক্রিনে আঙুল চালাতে লাগলেন।
**[পেই ইয়ে, আছো?]**
**[আছো, পেই ইয়ে?]**
**[পেই দাদি ও, বড় বিপদ, নাটক করো না!]**
**[পেই দাদা, তোমাকে দাদা বলছি, বার্তা পেলে উত্তর দাও। নইলে তোমার ব্রেইন হ্যাক করব!]**
**[পেই ইয়ে বেরোও, পেই ইয়ে বেরোও, জানো তুমি অনলাইনে আছ। স্ক্রিনের আড়ালে লুকিয়ে থেকো না—জান তুমি উঁকি দিচ্ছ!]**
...
নিচের ডানদিকের সময় এক সেকেন্ড করে বাড়ছে।
পেই ইয়ে উত্তেজিত বন্ধুর বার্তাগুলো পড়লেন। মুখে কোনো আবেগ নেই।
বন্ধু বারবার অনুনয়-বিনয় করে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে পরপর ২০০টির বেশি বার্তা দিয়েছে।
পেই ইয়ে মাঝখানের অর্থহীন বার্তাগুলো এড়িয়ে শেষের দিকে গেলেন।
**[পেই দাদি, তুমি ধৈর্যশীল, আমি হার মানলাম। তুমিই জিতলে।]** বন্ধুর মন নরম হয়ে এসেছে।
**[একটা কাজে তোমার সাহায্য চাই। তুমি এখন ফাঁকা আছ, আমার একটা বাচ্চা দেখো। কাজ শেষে যা চাও।]**
**[বাচ্চাটা অন্যদের জানতে দেওয়া ঠিক না। তাই শুধু তোমাকেই বলতে পারলাম।]**
**[জানি তুমি বাচ্চা দেখাতে জানো না। তাই ছোট্টটির জন্য আমি সহজে বড় করার অ্যাপ বানিয়েছি। নির্দেশ মতো করলেই হবে। তেমন পরিশ্রমের কিছু না।]**
**[আমার কাজ আছে, পরে কথা হবে!]**
<