অধ্যায় ১: অসাধারণ বড় ভাইয়ের আগমন
**বানক্সিয়া হৈ চৈয়ের মধ্যে ঘুম থেকে জেগে উঠল। চোখ খুলতেই সামনে একটা মোটা মুখ। বানক্সিয়া ভয়ে মাথা পেছনে টেনে নিল। মহিলাটি বুঝতে পেরে তাকে ভয় দেখিয়েছে, এক পা পিছিয়ে শুষ্ক হেসে বলল, "মিসেস সু জেগে উঠেছেন।"**
**"তুমি কে?"**
**"আমি পাশের বাড়ির গান এরনিয়াং। তুমি আর তোমার স্বামী গত রাতে কয়লা মনোক্সাইডে আক্রান্ত হয়েছিলে—আমিই প্রথম দেখতে পাই।"**
কী? স্বামী? কোনো ভুল হচ্ছে না? বাইশ বছর ধরে একা থাকা, পবিত্র কুমার পুরুষ—তুমি বলছ আমার স্বামী আছে?
**"মনে হচ্ছে আমার ঘুম ভাঙেনি। আরেকটু ঘুমাব।"** বলে বানক্সিয়া চোখ বন্ধ করল।
**"মিসেস সুকে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে মনে হচ্ছে।"** পাশে একজন মহিলার কণ্ঠ ভেসে এল।
**"আস্তে কথা বলো। গতকাল ডাক্তার বলেছিলেন, কয়লা মনোক্সাইডে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।"**
বানক্সিয়া চোখ ঘুরাল। আন্টি, তুমি কিন্তু আস্তে বলছ না।
**"ওহ মা! তা হলে তো বিপদ! মিসেস সু-র তেমন কিছু না, কিন্তু মিস্টার গান তো কাঁধে ভার নিতে পারেন না, হাতেও কাজ নেই। তার ওপর মস্তিষ্কের ক্ষতি... সত্যিই করুণ।"**
**"কী বলছ সব? এখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছ? এখনই বাড়ি গিয়ে দুপুরের খাবার তৈরি করো। সাবধান, তোমাদের স্বামীরা ফিরে এলেই বোকা বানিয়ে দেবে!"** এক বেহায়া গলায় চিৎকার শোনা গেল।
মহিলারা সম্ভবত এই লোকটিকে খুব ভয় পেত। সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল।
বানক্সিয়া চোখ খুলল। একটি অলস-আলস ভঙ্গির পুরুষ তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে। লোকটি কুশ্রী নয়, কিন্তু কাঁদু-কাঁদু ভঙ্গি—দেখতে খুব অমার্জিত।
**"বোন, জেগে উঠেছ?"**
হ্যাঁ, মনে হচ্ছে সে তার বড় ভাই।
তার বড় ভাই কোনো বিনয় না করে টেবিলের গ্লাসে নিজের জন্য পানি ঢালল। তারপর দেখল বানক্সিয়া তার দিকে তাকিয়ে আছে।
**"তুইও চাস?"** অলসভাবে বানক্সিয়া-র জন্যও পানি ঢেলে দিল।
পানি খেয়ে বানক্সিয়ার মাথা কিছুটা পরিষ্কার হলো। বর্তমান পরিস্থিতি—বহু বছর ধরে উপন্যাস পড়ার অভিজ্ঞতায় সে বুঝতে পারল, সম্ভবত সময়পারাপন হয়েছে। আর নিজের পোশাক ও কম্বল দেখে মনে হচ্ছে সাধারণ গরিব পরিবার।
**"বোন, আমি তোকে বলি—ওই পণ্ডিতের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়েছে। এখনো জেগে ওঠেনি। হয়তো আর জাগবে না।"** বানক্সিয়ার এই দামি ভাই বিছানায় শুয়ে থাকা পণ্ডিতটির দিকে ইশারা করে বলল, **"দেখ না, তার শরীর কত দুর্বল। একটু হাওয়া লাগলেই পড়ে যাবে। এখন মাথাও খারাপ হয়ে গেছে। বেশিরভাগই শেষ। তুই আমার সঙ্গে বাড়ি চল। তোর জন্য নতুন করে ভালো সম্পর্ক দেখে দেব।"**
**"আমার মনে হয় গতকালই বিয়ে হয়েছে।"**
**"সেটাই তো। এখনো বিয়ে রাত হয়নি। তাড়াতাড়ি ফিরে চল। আমি ইতিমধ্যে হুয়াং সাহেবের সঙ্গে কথা বলে রেখেছি। তুই আজ ফিরলে, আগামীকালই লোক পাঠাবে। পণ হবে দশ টাকা রুপো। আমি লোভী নই, তোকে তিন টাকা দেব যৌতুক হিসেবে। আমি তোকে বলছি, হুয়াং সাহেবের বাড়ি তিন তলা উঁচু, টালির ছাদ। তার প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়ে আছে। তুই গিয়ে ছেলে সন্তানের জন্ম দিতে পারলে, জীবনটা..."**
**"আরে, আমি বলি—"**
**"আমি জানি হুয়াং সাহেবের বয়স একটু বেশি। বড় হওয়ারও ভালো দিক আছে—স্নেহ করতে জানে..."**
**"চুপ!"** বানক্সিয়া আর সহ্য করতে পারল না।
**"কী হয়েছে?"**
**"বাইরে যা!"**
**"কী বললি?"**
**"আমি বলেছি বাইরে যা, যা!"**
লোকটি মুহূর্তে রেগে গেল, **"ডিং বানক্সিয়া, তোর মুখ দেখে কথা বলছি! এত ভালো সম্পর্ক, তুই যদি আমার বোন না হতে, তাহলে এত সুযোগ পেতি না। এখন তুই জেদ ধরছিস? আমি তোকে আগেই বলে দিচ্ছি—যখন ওই নির্বোধকে সারাজীবন সেবা করতে করতে বিরক্ত হবে, তখন আমি তোকে আশ্রয় দেব না।"**
**"কার আশ্রয় চাই! আমি তোকে বলছি, আমি ভিক্ষে করেও খাব, কিন্তু তোর দান নেব না। এখন বাইরে যা!"**
**"আরে তুই—"** লোকটি হাত বাড়াল। বানক্সিয়া সরাসরি চাপটিয়ে দিল। কিছুটা শক্তি ফিরে পেয়েছে। **"তুই যাবি না?"** বানক্সিয়া দাঁড়িয়ে গেল।
**"কী করবি?"**
বানক্সিয়া সোজা বালিশ নিয়ে তার ভাইকে মারতে লাগল। **"বাইরে যা!"**
লোকটি যেতে চাইল না। বানক্সিয়া একের পর এক জোরে মারতে লাগল। শেষ পর্যন্ত গালিগালাজ করতে করতে চলে গেল।
বানক্সিয়া তখন বিছানার ধারে হেলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।