অধ্যায় ১: ঝাও ঝেং-এর পলায়ন

আমি ছিন শিহুয়াং-এর আশীর্বাদে দেবত্ব লাভ করি বিড়াল রমণী 3206শব্দ 2026-03-04 14:58:14

        **চাও রাজ্যের হানদান।**

এর উত্তর-পশ্চিমে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে জিশান পাহাড়ের পাদদেশে। ঝড়ো হাওয়ায় পাতা উড়ছে, ঘন জঙ্গল ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত হচ্ছে, পাখিরা তাড়াতাড়ি বনে আশ্রয় নিচ্ছে, বন্য প্রাণীরা ভয়ে ছুটছে।

**"ছুই——" "ছুই——"**

**"আর কোথায় পালাবি!"**

তীর ছোঁড়ার শব্দ থামছে না। মানুষের চিৎকার আর ঘোড়ার ডাক মিলে যেন ফুটন্ত জলের শব্দ।

মনে হচ্ছে চাও রাজ্যের অভিজাত যুবকরা বসন্তের শিকারে বেরিয়েছে।

বাই তাও এতে অভ্যস্ত।

এটি হানদানের শ্রেষ্ঠ পর্বত। সারা বছর বেগুনি আলো ঝলমল করে, রংধনুর আভা ছড়ায়। বহু বছর ধরে এটি কেবল তাদের这些小妖精的修行场所ই নয়, বরং চাও রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিকারের স্থানও।

গাছের ডালে উঠে সাময়িকভাবে আড়াল হওয়ার সময় বাই তাও দেখল গাছের কাছে একজন অল্পবয়সী ছেলে ঘোড়ায় চড়ে আসছে।

তার পেছনে কয়েকজন সমবয়সী ঘোড়ার পিঠে। তাদের পরনে বিলাসবহুল পোশাক, হাতে ধনুক, কিন্তু তীরের লক্ষ্য শিকার নয়—ওই অল্পবয়সী ছেলেটির পিঠ।

**"ছুই——"**

একসঙ্গে তিনটি তীর। প্রতিটি তীরই প্রাণ নেওয়ার মতো।

ছেলেটির মুখে আঁচড়ের রক্তের দাগ, দেখতে বেশ বিপর্যস্ত। কিন্তু তার দক্ষতা অসাধারণ।

তলোয়ার তুলে পেছনে আঘাত করে সে সহজেই তীরের আক্রমণ ঠেকিয়ে দিল।

কিন্তু একটি তীর আটকানো গেল না। তা ঘোড়ার পায়ে লাগল। ঘোড়া ব্যথায় সামনের পা উঁচু করে ফেলল, প্রায় ছেলেটিকে ফেলে দিচ্ছিল।

**"হ্যাঁ!"**

ছেলেটি কষ্টে নিজের অবস্থান স্থির রাখল। দাঁত চেপে তলোয়ারের পিঠ দিয়ে ঘোড়ার পিঠে জোরে চাপড় দিল।

এত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও তার কাজগুলো একসূত্রে গাঁথা, তার বয়সের তুলনায় অসাধারণ স্থিরতা।

তীর না লাগায় পেছনের লোকদের রাগে গা জ্বলে উঠল। এক দীর্ঘকায় যুবক ঘোড়ার গলায় হাত রেখে গালিগালাজ করতে লাগল, **"এত দ্রুত পালাচ্ছে! মালিক, আমরা তাকে ছেড়ে দেব না!"**

তাড়া খেয়ে পালাবে না? দাঁড়িয়ে থাকবে?

বাই তাও মনে মনে বিড়বিড় করল। সে লেজ গুটিয়ে গাছের ডালে বসে রইল। শেয়ালের চোখ দুটো দুটি দলের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল। পাঞ্জা দিয়ে গাছের বাকল ধরে চটপটে আরেক ডালে লাফ দিল।

হ্যাঁ, সামনে গিয়ে নাটক দেখতে হবে।

**"তাাড়াতাড়ি ধর! ধরতে পারলে পুরস্কার!"**

**"নীচু লোক, আমার আদেশ অমান্য করার সাহস!"**

**"পালাবে? আর কোথায় পালাবে? তুই! ওদিকে ঘিরে ধর!"**

ছেলেটি মাটিতে বিপজ্জনকভাবে পালাচ্ছে, বাই তাও গাছের ডালে ডালে লাফাচ্ছে।

ছেলেটি চোখের কোণে কিছু দেখতে পেল। মাথা ঘুরালে তার কালো চুল উড়ে তার সূক্ষ্ম চিবুক ছুঁয়ে গেল।

সে দেখল গাছের ডালে একটি লাল শিয়াল লাফাচ্ছে। সেই শিয়ালের পশম সূর্যের আলোয় আগুনের বলের মতো জ্বলছে।

চঞ্চল, সুন্দর।

কিন্তু সে খুব বেশি মনোযোগ দিল না। পেছনে চাও ইয়ানের দল তাকে তাড়া করছে। তারা তাকে মারবে না, কারণ সে ছিল চিন রাজ্যের জিম্মি।

কিন্তু তারা তাকে পঙ্গু করে দিতে চায়। শিকারের দুর্ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে।

কেই-বা পঙ্গু হতে চায়?

ছেলেটির চোখ অর্ধেক বন্ধ। ঘোড়ার চাবুক টেনে সে কাঁটাঝোপের দিকে ছুটে গেল।

ঘোড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাকে দ্রুত পালাতে হবে।

যদি সে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পারে, তাহলে এই অপমানের প্রতিশোধ সে বহুগুণে নেবে!

বাই তাও তখনো ডালে ডালে তার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় মেতেছিল। হঠাৎ ছেলেটি কাঁটাঝোপের ভেতর ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেল।

বাই তাও: "?"

সে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল। শেয়ালের চোখগুলো বড় হয়ে গেল।

তাড়াতাড়ি থামল। নিচে তাকিয়ে দেখল অন্য দল এসে পৌঁছেছে।

তারা মাটিতে ঘোড়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখল। ঘোড়াটি বিষাক্ত তীরে মারা গেছে, মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছে। কিন্তু ছেলেটি নেই। তারা গালিগালাজ করতে লাগল।

**"আবার পালাল! বাঁদর!"**

**"চালাক! মালিক, আমরা এখন কী করব? তাকে পঙ্গু না করে আমি চাও রাজ্যের মানুষ থাকব না!"** দীর্ঘকায় যুবক পা ঠুকতে ঠুকতে ক্ষোভে বলল।

দলের নেতা চাও রাজ্যের যুবরাজ চাও ইয়ান। তার গাল ফুলে উঠল। ছেলেটির পিঠে চাপড় দিয়ে সান্ত্বনা দিল, **"থাম। সে তো জন্মগতভাবে দাস-দাসীর সন্তান, জিম্মি। তার বাবা আমাদের চাও রাজ্যে নর্তকী-গায়িকারও তলানিতে থাকে। এই পরিত্যক্ত বাচ্চাটা তো তার মা এক বণিকের সঙ্গে ব্যভিচারে জন্ম দিয়েছে। এই জাতীয় লোক ফিরেও যেতে পারে না। শিগগিরই মরবে। তুই এত রাগ করছিস কেন?"**

**"মালিক——"** দীর্ঘকায় যুবক ঘ্যানঘ্যান করতে লাগল।

**"চল! আজকের শিকার এখানেই শেষ। ফিরে গিয়ে মদ-মাংস খাব!"**

চাও যুবরাজ হাত নাড়তেই দীর্ঘকায় যুবক অনিচ্ছা সত্ত্বেও দলের সঙ্গে চলে গেল।

সূর্য অস্ত যাচ্ছে। আকাশে বেগুনি, লাল রঙের আভা ছড়াচ্ছে। যেন অদৃশ্য হাতে রং ছড়ানো হচ্ছে—গাঢ় বেগুনি, লাল, তারপর সোনালি—আভা ভেসে উঠছে।

বাই তাও গাছের ডালে বসে নিজের লেজ পাকাতে লাগল।

এক পাক, দুই পাক, তিন পাক...

সময় ধীরে বয়ে চলল।

**"হু——"**

এক নিঃশ্বাসে বাই তাও ভাবল, প্রতিদিন সে এই পর্বতে মাছ ধরে, পাখি তাড়ায়, প্রজাপতি, ফড়িং, কাঠবিড়ালি ধরে বিরক্ত করে। এরপর শুধু সাধনা। আর কিছু করার নেই।

তাহলে সে যদি একজন মানুষ তার গুহায় নিয়ে যায়, বড় ভাই রাগ করবে না তো?

পাঞ্জা চাপড়ে সিদ্ধান্ত নিল।

বাই তাও লেজ উঁচু করে গাছ থেকে লাফিয়ে মাটিতে পড়ল। ছেলেটি অদৃশ্য হওয়ার দিকে এগিয়ে চলল।

কাঁটাঝোপ।

অর্থাৎ বহু বছর無人 যাতায়াত, কাঁটা ও লতাপাতায় ভরা জায়গা। বিষধর সাপ, পোকামাকড়ের শেষ নেই। মাটিতে জমে থাকা পচা পাতার গন্ধে মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়।

বাই তাও ঢুকতেই নাক সিটকাল। এক পা এগিয়ে, এক পা পেছিয়ে চলছে। দূরে শেয়ালের ডাক। বিপজ্জনক অন্ধকার নেমে আসছে।

বাই তাও ধীরে ধীরে খুঁজতে লাগল। চাঁদের আলোয় তার শেয়ালের চোখ বাদামি-হলদে আভা ছড়াচ্ছে।

ওহ, প্রায় ভুলেই গিয়েছিল।

সে আসলে একটি শেয়ালের ভূত।

রক্তের দাগ ধরে বাই তাও অচেতন ছেলেটিকে পেল।

তার কালো পোশাক কাঁটায় ছিঁড়ে গেছে। শরীরের উন্মুক্ত অংশ রক্তে ভেজা। গায়ে অনেক কাঁটা গেঁথে আছে।

যেন একটি সজারু। কালো সজারু।

বাই তাও মনে মনে ভাবল।

সে কাছে গিয়ে ছেলেটির গায়ের গন্ধ শুঁকল। সে মানুষ চেনে না, শুধু গন্ধ চেনে। এই ছেলেটি দেখতে কালো হলেও গন্ধ খুব নির্মল। নির্মলতা দেখে তার ক্ষুধা পেল।

সে গলার রক্তের দাগ চাটতে যাচ্ছিল, হঠাৎ দেখল ছেলেটির গালে তীরের আঘাত। কালো রক্ত ঝরছে।

**"ওহ?"**

বিষ লেগেছে?

বিষ লেগেছে মানে ভালো নয়। নষ্ট হয়ে গেছে মানে খারাপ মানুষ। খারাপ মানুষ চাটা যাবে না।

বাই তাও আফসোস করে দাঁত চাটল। ছেলেটির ঘাড় ধরে নিজের গুহায় টেনে নিয়ে চলল।

দাঁত প্রায় ভেঙে যাচ্ছিল। কষ্টে তাকে তার ও বড় ভাইয়ের গুহায় নিয়ে এল।

**"ছোট্টটি, একটা জংলি মানুষ নিয়ে এসেছ?"**

গুহার বাইরে তার সুদর্শন শেয়াল ভাই। চুল রূপালি, কোমর ছুঁয়ে। চেহারা অতুলনীয়—এই পর্বতের সবচেয়ে সুন্দর শেয়াল ভূত।

সে পাহাড়ের পাথরে পা ছড়িয়ে সূর্য-চাঁদের শক্তি শোষণ করছিল। বাই তাওকে দেখে চোখ সরু করে তাকে ডাকল।

বাই তাও সঙ্গে সঙ্গে তার বুকে গিয়ে লুটিয়ে পড়ল, **"ভাই!"**

বাই থু তার থাবা ধরে দেখল। দাঁত ভাঙেনি দেখে নিশ্চিন্ত হল।

চোখ ঘুরিয়ে বাই থু তার লোমশ মাথায় হাত বুলিয়ে মাটিতে অচেতন ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল, **"ভালো জিনিস।"**

পাওয়া জিনিস প্রশংসিত হলে বাই তাও খুব খুশি।

সে লেজ নাড়তে যাচ্ছিল, হঠাৎ শুনল তার সুদর্শন ভাইয়ের আকর্ষণীয় কণ্ঠ, **"হাঁড়িতে সেদ্ধ করার মতো।"**

**"..."**

বাই তাও একটু থতমত খেয়ে বলল, **"কিন্তু ভাই, আমরা কি মানুষ খাই না?"**

**"এটা মানুষ নয়।"**

বাই থু তাকে কোলে তুলে দাঁড়াল। পাহাড়ের চূড়ায় বাতাসে তার সাদা পোশাক উড়ছে, রূপালি চুল দুলছে। তার বয়স যেন কালের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু এক ধরনের বিষণ্ণতা আছে, **"এটা স্বর্গের রাজা, পৃথিবীর রাজা, এবং তিন রাজার অন্যতম—পান-গু-র বংশধর—মানুষের রাজা।"**

বাই তাও খুব বেশি কিছু বোঝে না। এখনো সংসারের গভীরে যায়নি।

কিন্তু একটা কথা বুঝতে পারল—এটা সত্যিই অসাধারণ জিনিস। আগে ভাই যা ভালো জিনিস পেত, সব আগে তাকে খাওয়াত। এখন সে ভালো জিনিস পেয়েছে—মানুষ হোক, রাজা হোক—প্রথমে ভাইকে দিতে হবে।

তীরের মতো গুহায় ঢুকে খাবারের পাত্র মুখে নিয়ে এল। বাই তাও এক থাবা ছেলেটির বুকে রেখে কানের ডগা নাড়িয়ে বলল, **"ভাই, হাঁড়ি চড়াও! আগুন জ্বালাও! খাবো!"**

**"এখনো সময় হয়নি।"**

বাই থু মাথা নাড়ল। ছোট্টটিকে আটকাল।

ঘাড় ধরে বাই থু ছোট্টটিকে তুলে নিল। বাই তাও দুই পাঞ্জা দিয়ে খাবারের পাত্র ধরে বিস্ময়ে বড় চোখে তাকাল, **"সময় মানে কী?"**

**"সময় মানে মানুষ সাধনার গভীরতা। সময় পাকলে তার স্বাদ অসাধারণ হয়।"**

বাই থুর কণ্ঠ শান্ত, যেন ফুল-পাতার কথা বলছে। সে ছেলেটির রোগা দেহের দিকে তাকিয়ে বলল, **"এখনো ধ্যান-সাধনা সম্পন্ন করেনি। এখনো অপরিপক্ব।"**

বাই তাও কিছুক্ষণ ভেবে একটা পরামর্শ দিল, **"তাহলে ভাই, আমরা তাকে বন্দী করে রাখি। ধ্যান-সাধনা সম্পন্ন হলে খাব।"**

**"সত্যিই ছোট্ট চালাক।"**

বাই থু তার পেটে হাত বুলিয়ে এক হাতে ছেলেটির হাত ধরে গুহার ভেতর টেনে নিয়ে গেল।